Thursday, October 6, 2011

এ বছরই দেশের সব জেলা হচ্ছে ই-জেলা ৩১ জেলায় ইতোমধ্যে ই-কার্যক্রম চালু


এবছরই দেশের সব জেলা হচ্ছে ই-জেলা
৩১ জেলায় ইতোমধ্যে ই-কার্যক্রম চালু, ঘরে বসেই মিলছে ইন্টারনেট সেবা
মহিউদ্দিন আহমেদ ॥ চলতি বছরের মধ্যে দেশের সব জেলাই হবে ই-জেলা। জেলা প্রশাসনের সকল সেবা জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে এ উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে দেশের ৩১ জেলায় ই-কার্যক্রম শুরু হয়েছে। এর ফলে জনগণ মোবাইল অথবা ইন্টারনেটের মাধ্যমে ঘরে বসে পাচ্ছে ২শ'র অধিক সরকারী সেবা। এতে ২০ দিনের কাজ শেষ করা যাচ্ছে মাত্র দু' দিনে। এছাড়া সকল কাজ কম্পিউটারের মাধ্যমে সম্পাদন হওয়ায় ঘুষ লেনদেন পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে। ক্ষমতাসীন দলের নির্বাচনী ইশতেহার হিসেবে দেশকে ডিজিটাল করার লক্ষ্যে ২০০৯ সালে যশোর জেলায় পাইলট প্রকল্পের কাজ শুরু হয়। গত দেড় বছরে এই প্রকল্প দারুণ সফলতা দেখিয়েছে। ওই জেলার মানুষের জীবনকে অনেক সহজ করে দিয়েছে ই- সেবা।


প্রধানমন্ত্রীর দফতরের তত্ত্বাবধানে এ্যাঙ্সেস টু ইনফরমেশন প্রকল্পের অধীনে এই কাজ শুরম্ন করা হয়। পাইলট প্রকল্পের পর গত দেড় বছরে দুই ধাপে দেশের আরও ৩১ জেলায় ই-সেবা শুরম্ন করা হয়েছে। ২০১১ সালের শুরুর দিকে প্রথম ধাপে যশোরসহ ১১ জেলায় ই-সেবা কার্যক্রম শুরু হয়। এর মধ্যে আছে মাগুরা, ময়মনসিংহ, নেত্রকোনা, মৌলভীবাজার, ঝালকাঠি, সিরাজগঞ্জ, পঞ্চগড়, সাতৰীরা, নরসিংদী ও সিলেট। চলতি বছরের আগস্ট মাসের প্রথম দিকে দ্বিতীয় ধাপে একই সেবা শুরম্ন হয় আরও ২০ জেলায়। ওসব জেলার মধ্যে আছে বগুড়া, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, চট্টগ্রাম, কুমিল্লা, কঙ্বাজার, দিনাজপুর, ফরিদপুর, গোপালগঞ্জ, খুলনা, কিশোরগঞ্জ, কুড়িগ্রাম, কুষ্টিয়া, নারায়ণগঞ্জ, নোয়াখালী, পাবনা, পটুয়াখালী, রাজশাহী, রাঙ্গামাটি, রংপুর ও টাঙ্গাইল। তবে পাইলট প্রকল্পের খরচ প্রধানমন্ত্রীর দফতর বহন করলেও পরবতর্ীতে ই-জেলা কার্যক্রম বাসত্মবায়নে সকল খরচ বহন করতে হবে জেলাকে। ই-সেবার মধ্যে সরকারের প্রায় দুই শতাধিক বিষয়ে সেবা প্রদান করা হবে। এর মধ্যে আছে শিৰা, স্বাস্থ্য, জমির দলিল দসত্মাবেজ, বন্দুকের লাইসেন্স, স্থানীয় সরকারের কর্মকা-সহ সকল কার্যক্রম এর আওতায় সম্পাদন করা হবে। বাকি ৩৩ জেলাতে ই-সেবা প্রদান শুরম্ন হবে চলতি মাসের মধ্যে। এর ফলে পাল্টে যাবে পুরো দেশের মানুষের সরকারী সেবা পাওয়ার ধরন। সম্প্রতি সরেজমিনে দেশের প্রথম ই-জেলা যশোর গিয়ে দেখা যায়, মানুষ কোন প্রকার ঝামেলা ছাড়াই সরকারী সেবা পাচ্ছে। জেলা প্রশাসন কার্যালয়ের নিচ তলায় জেলা ই-সেবা কেন্দ্র খোলা হয়। এখানে নাগরিক আবেদন দাখিল, দাফতরিক পত্র প্রেরণ, রেকর্ড রম্নমের নকল প্রাপ্তির আবেদন দাখিল এবং সর্বশেষ অবস্থা জানার জন্য পৃথক ৪টি লিংক দেয়া রয়েছে। এই সেকশনে দেশ বা বিদেশ হতে যে কোন সেবার জন্য ইন্টারনেটের মাধ্যমে আবেদন দাখিল করে। দাখিলকৃত আবেদনের ওপর কী কার্যক্রম নেয়া হয়েছে সেটাও নাগরিকদের মোবাইল বা ইন্টারনেটের মাধ্যমে জানিয়ে দেয়া হয়। কাজের অগ্রগতি বা অবস্থা জানতে এখন আর গ্রাম থেকে শহরে আসতে হয় না মানুষকে। জেলা সদরের বাইরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয় হতেও জনগণ যে কোন সেবার জন্য আবেদন দাখিল করতে পারে। তাকে কষ্ট করে আর জেলা সদর পর্যনত্ম আসতে হয় না। এই জেলার সকল শিৰা প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রমও ইন্টারনেটের মাধ্যমে পরিচালিত হয়। যশোর জেলা প্রশাসক মোসত্মাফিজুর রহমান ই-সেবার ইতিবাচক দিক তুলে ধরে বলেন, যে সেবার জন্য নাগরিকদের ১৮ থেকে ২০ দিন অপেৰা করতে হতো এখন সেই সেবা মাত্র দু' দিনে পাচ্ছে। তাছাড়া সকল কাজকর্ম কম্পিউটারের মাধ্যমে সম্পাদন হওয়ার কারণে ঘুষ লেনদেন পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে। কারণ এখন সেবা পাওয়ার জন্য নাগরিকদের কর্মকর্তার মুখোমুখি হতে হয় না। মানুষ তার প্রয়োজনীয় তথ্য সেবা কেন্দ্র থেকে বুঝে পাচ্ছে। তাছাড়া ই-কার্যক্রমের কারণে সরকারী কর্মকর্তারা অনেক কর্মতৎপর হয়ে উঠেছেন। কারণ ই-সেবা কাজে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীগণ একটি চেইনের মধ্যে থাকে। এ চেইনের কোন একটি অংশ বিচ্ছিন্ন থাকলে সামগ্রিক কার্যক্রম ব্যাহত হয়। জেলা প্রশাসক তার ল্যাপটপের সামনে বসেই সকল কর্মকর্তার কর্মতৎপরতা দেখতে পারেন। অর্থাৎ কার কাছে কতটি ফাইল ঝুলে আছে তিনি সেটা দেখতে পান। ফলে কর্মকর্তাদের মধ্যে কোন কাজ ফেলে না রাখার একটি তাগিদ সৃষ্টি হয়। শুধু জেলা প্রশাসক নয় যে কোন কর্মকর্তা লগইন করার পরেই সরকারী কর্মকর্তাদের কর্মতৎপরতা দেখতে পারেন। নতুন করে চালু হওয়া অপর ৩০ জেলার মানুষও এইভাবে সেবা পাচ্ছেন। বাকি ৩৩ জেলায় ই-সেবা চালু হলে ওসব জেলার নাগরিকরাও পাবেন এমন সেবা। তবে নতুন করে ই-সেবা চালু হওয়া জেলাগুলোতে এখনও কিছুটা সমস্যা আছে। প্রচারের অভাবে অনেক মানুষের কাছে এখনও ই-সেবা অজানা রয়ে গেছে। প্রচার বৃদ্ধি করা হলে ক্রমান্বয়ে মানুষের কাছে প্রিয় হয়ে উঠবে ইলেকট্রনিক কার্যক্রম।

No comments:

Post a Comment